খুলনার ডুমুরিয়ার এক কিশোরের জীবন একসময় ছিল অনিশ্চয়তা, শোক আর সংগ্রামে ভরা। সেই কিশোরই আজ অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা। সম্প্রতি রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্স (RAAF)-এ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এস এম নাজমুস সাহাদ সোহান।
অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সের প্রকাশিত পদোন্নতি সনদ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ জুন থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পদে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
তবে এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।
খুলনার ডুমুরিয়া হাইস্কুল ও ডুমুরিয়া কলেজে পড়াশোনা করা সোহান মাত্র ১৩ বছর বয়সে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা দুজনকেই হারান। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন ক্ষতি তার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। কয়েক বছর পর বড় ভাই অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেলে তিনি ফুফুর বাড়িতে বড় হন।
কৈশোরের সেই কঠিন সময়ে হতাশা, একাকিত্ব এবং নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু একসময় তিনি নিজের জীবন নতুনভাবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তার ভবিষ্যৎ।
পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান সোহান। মেলবোর্নে পড়াশোনার পাশাপাশি শুরু করেন নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার লড়াই। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি শিক্ষা ও ব্যবসা খাতেও যুক্ত হন। একাধিক উদ্যোক্তা উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও।

কিন্তু তার স্বপ্নের পথ সেখানেই শেষ হয়নি।
দেশের বাইরে নতুন জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সে। দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের কঠোর নির্বাচন, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া শেষে তিনি ফ্লাইং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শারীরিক সক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ এবং দায়িত্ব পালনে দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে অল্প সময়ের মধ্যেই পদোন্নতি পেয়ে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হন। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে অবস্থিত RAAF Base Edinburgh-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের Officer-in-Charge হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন স্বামী ও কন্যাসন্তানের জনক। ব্যস্ত পেশাগত জীবনের পাশাপাশি পরিবারের জন্য সময় বের করাকে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
ডুমুরিয়ার ছোট্ট শহর থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর দায়িত্বশীল পদে পৌঁছানোর এই যাত্রা অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। নাজমুস সোহানের গল্প মনে করিয়ে দেয়—জীবনের কঠিনতম অধ্যায়ও শেষ কথা নয়; দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম এবং লেগে থাকার মানসিকতা থাকলে নতুন অধ্যায় লেখা সম্ভব।
তথ্য সূত্র: পারিবারিক ও কমিউনিটি সূত্রে প্রাপ্ত, ছবি: সংগৃহীত














