অনলাইন ডেস্কঃ ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া লাখো অভিবাসীর ওয়ার্ক পারমিট (Employment Authorization Document – EAD) প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)। প্রস্তাবিত নতুন নীতির আওতায় ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার যোগ্যতা, নবায়ন প্রক্রিয়া এবং অনুমতির মেয়াদ আরও কঠোর করা হতে পারে। এতে মানবিক প্যারোল, ডিফার্ড অ্যাকশন এবং বহিষ্কারাদেশের মুখোমুখি থাকা নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনের আগে আবেদনকারীদের আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অনুমতির মেয়াদ এক বছরে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের আর্থিক প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের ওপরও গুরুত্ব বাড়ানো হতে পারে।
বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছেন এমন অভিবাসীরা, যাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার (Removal Order) জারি হয়েছে কিন্তু বিভিন্ন কারণে তারা এখনও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এ ধরনের অনেক ব্যক্তি ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। ডিএইচএসের দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোরতা আনা, অবৈধ অভিবাসনের প্রণোদনা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ বাসিন্দাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও নীতিনির্ধারণী বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বৈধভাবে কর্মরত হাজার হাজার অভিবাসী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এর ফলে কৃষি, আতিথেয়তা, নির্মাণ এবং সেবা খাতসহ অভিবাসী শ্রমিকনির্ভর বিভিন্ন শিল্পেও কর্মী সংকট দেখা দিতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে মানবিক প্যারোল, ডিফার্ড অ্যাকশন এবং অন্যান্য বিশেষ ক্যাটাগরিতে প্রায় ১০ লাখের কাছাকাছি ওয়ার্ক পারমিট আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছিল। ফলে নতুন নীতির সম্ভাব্য প্রভাব ব্যাপক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে প্রস্তাবিত নিয়মটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। জনমত গ্রহণ, নীতিগত পর্যালোচনা এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের পরই এটি কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূত্র: বাংলা পত্রিকা USA, DHS Policy Proposal Reports, ছবি: AI Generated















